লাভজনক ডেইরি ফার্মের জন্য ড্রাই পিরিয়ডের গুরুত্ব

farmer20170118200046.jpg

কৃষিবিদ মো. মহির উদ্দীন: অনেক কৃষক বা খামারি তাঁর গাভীর গুণাগুণ বর্ণণা করতে যেয়ে গর্বভরে বলে থাকেন, ‘আমার গাভী বাচ্চা প্রসবের আগের দিন পযর্ন্ত দুধ দেয়’! একটি গাভী বাচ্চা প্রসবের পর হতে যতদিন পযর্ন্ত দুধ প্রদান করে সে সময়কালকে দুধ উৎপাদন কাল বা ল্যাকটেশন পিরিয়ড (Lactation period) বলা হয়। গাভীর দুধ উৎপাদনকাল বা ল্যাকটেশন পিরিয়ড ৩০৫ দিন ধরা হয়। বছরের বাকী ৬০ দিনকে বলা হয় গাভীর ড্রাই পিরিয়ড (Dry Period) বা দুগ্ধবিহীন সময়। অর্থাৎ এই সময়কালে গাভী দুধ প্রদান করেনা বা সচেতন খামারিরা গাভী হতে দুধ গ্রহণ করেন না। তাহলে দেখা যাচ্ছে, গাভীর ল্যাকটেশন পিরিয়ড এবং ড্রাই পিরিয়ডের মধ্যে একটা সম্পর্ক বিরাজমান; একটা কমলে আরেকটা বাড়ে। তবে এই বাড়া-কমা’র একটা পরিমাপ আছে যার ওপর একটি দুগ্ধ খামারের সাফল্য বা লাভ নির্ভর করে।

গাভীর ল্যাকটেশন পিরিয়ড ৩০৫ দিন ধরা হলেও গাভী আরো বেশি দিন পযর্ন্ত দুধ দেয়, যদি সে পর্যন্ত দুধ গ্রহণ করা হয়। তাহলে ড্রাই পিরিয়ড়ের দৈর্ঘ্য কমে যায়। ফলে পরবর্তী ল্যাকটেশনে সর্বোচ্চ পরিমাণ দুধ উৎপাদনের জন্য গাভীর ওলানগ্রন্থি দুধ উৎপাদনের ধকল কাটিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে কম সময় পায়। যদি ড্রাই পিরিয়ড ৪০ দিনের কম হয়, তাহলে পরবর্তী ল্যাকটেশনে দুধ উৎপাদন (২০-৪০%) কম হয়। আবার যদি ড্রাই পিরিয়ড বেশি হয় তাহলে পরবর্তী ল্যাকটেশনে দুধ উৎপাদনকে প্রভাবিত না করলেও বর্তমান ল্যাকটেশনে দুধ উৎপাদন কম হবে।

এখানে একটি বিষয় তাহলে স্পষ্ট যে, গাভী বাচ্চা প্রসবের আগের দিন পযর্ন্ত দুধ দিলেও সে সময় পর্যন্ত দুধ গ্রহণ করা যাবে না। লাভজনক খামারের জন্য একটা গাভী বাচ্চা প্রসবের পূর্বে ২ মাস সময় পর্যন্ত দুধ দোহন বন্ধ রাখতে হবে। অনেক সময় দুধের প্রেসার থাকলে খাদ্য ও পানি প্রদান বন্ধ করে কমিয়ে দুধের প্রেসার কমানো যায়। এভাবেই ড্রাই পিরিয়ডের দৈর্ঘ্য বা সময় নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

লেখক : উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, শিবচর, মাদারীপুর।